পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে বিশ্ববাজারে কমছে জ্বালানি তেলের দাম

তীব্র সংকটের আশঙ্কা ও রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমছে।

বাজারে তেলের ঘাটতি হওয়ার বদলে উল্টো জোগান উদ্বৃত্ত হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা ঘোষণার পর এ দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আগের দেয়া বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের সতর্কবার্তাগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

কয়েক মাস ধরে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকেরা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছিলেন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, গ্রীষ্মকালে জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতি দেখা দেবে। এমনকি ওয়াল স্ট্রিটের কিছু বিশেষজ্ঞ পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজার সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়েছে এবং ধারণার চেয়েও বেশি স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলারের নিচে লেনদেন হয়েছে, যা সংঘাতের শুরুর দিনগুলোর সমান। এমনকি সংকটের চরম মুহূর্তেও জ্বালানি তেলের দাম ১২৬ ডলারের বেশি ওঠেনি, যা বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে খারাপ পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক কম। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দামের পূর্বাভাস দেয়া সবসময় কঠিন। বিশেষ করে এত বড় সংকটের পরও যখন দাম আশানুরূপ বাড়ে না, তখন বাজার ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অতিরিক্ত আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। উভয় ক্ষেত্রেই চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি বাজার বড় ধরনের ধাক্কা সামলাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম। বাজারের এ সহনশীলতা নীতিনির্ধারকদের যেকোনো বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সাহস জোগাবে।

জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার প্রধান কারণ বড় কোম্পানিগুলোর প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তব চাহিদার অমিল। তেল কোম্পানির নির্বাহীরা যখন মজুদ কমে যাওয়ার কথা বলে দাম বাড়ার পূর্বাভাস দিচ্ছিলেন, তখন তারা বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক পরিবর্তনগুলো খেয়াল করেননি। অতিরিক্ত দামের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা এমনিতেই কিছুটা কমে গিয়েছিল।

যদিও প্রাথমিক চুক্তির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রকৃত সরবরাহ এখনো সরাসরি বাড়েনি, তবু ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ট্যাংকারগুলো চলাচল শুরু করলে বাজারে দ্রুত তেল সরবরাহ বাড়বে। কমোডিটি ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে এ অঞ্চলে কোটি কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও (আইইএ) জানিয়েছে, শান্তি বজায় থাকলে আগামী বছরগুলোয় বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল উদ্বৃত্ত থাকবে। সব মিলিয়ে তীব্র ঘাটতির ভয় কাটিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার এখন বাড়তি সরবরাহের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও